WELCOME TO AZMIR'S BLOG

Thank you for visiting my Blog! If you have any comments or suggestions relating to the posts or contents of this Blog, you are most welcome to do so by using 'post a comment' section below every post. You can also simply rate a post by clicking either 'funny', 'interesting' or 'cool' box. Personally I believe in 'the Hegelian Dialectic', and I strongly advocate for free speech and open discussion. Here I am trying to have a meaningful and productive dialogue with you. Your every piece of advice helps me to improve the Blog!
Cheers Azmir !

Tuesday, October 8, 2013

কুকুরের ডাক ও ডাবল মার্ডার


বেশ কিছুদিন তিমুর সাগর পাড়ে যাওয়া হয়না। বাসা থেকে মিনিট পাঁচেকের পায়ে হাঁটা দূরত্ব। তাই আজ রওয়ানা হলাম। রাস্তার পাশের কোনো একটি বাড়ীর পাশ দিয়ে যাচ্ছি, এমূহূর্তে বাড়ীর ফেঞ্চের ভেতর থেকে একটা কুকুর অকস্মাৎ এমন জোরে ঘেউ করে উঠল যে একেবারে হার্টবিট বন্ধ হবার অবস্থা। রক্ষা শুধু এখানে বাড়ীতে কেহ গার্ড কুকুর রাখলে পুরো বাড়ীর চারপাশেই ফেঞ্চ রাখে। নতুন বা অপরিচিত কাউকে দেখলেই কুকুরে ডাক ছাড়ে। সে নতুনকেই অমঙ্গল মনে করে। কুকুরের এ বৈশিষ্ট্য তার মালিকের বাড়ীর নিরাপত্তা রক্ষায় খুব মঙ্গলজনক, সন্দেহ নাই, তবে বহু পথচারীর জন্য তা ভীষণ অপ্রীতিকর!  যাহোক, কুকুরের ডাক শুনে আমার বছর দুয়েক আগের আরেকটি কুকুরের কথা মনে পড়ে গেল। ঐ কুকুরটিকে কোনোদিন আমি দেখিনি, তার ডাকও শুনিনি কোনোদিন ; যদিও কোনো একদিন তার ডাক দেওয়ার হয়তঃ খুব প্রয়োজন ছিল! তবে ডাক না দিয়েও সে একটা লোককে চিনিয়ে দিয়েছিল!

বছর দুয়েক আগের কথা। তখন অন্য এক অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া থাকি। বর্তমান বাসাটি থেকে মাত্র মাইল দেড়েক দূরে। সকাল ৬ টার মত হবে, কলিং বেল বাজল। এত সকালে কে আবার আসল? দরজা খুলে দেখি দু’জন দাঁড়িয়ে আছেন। দ্রুত নিজেদের পরিচয় দিলেন পুলিশ ডিপার্টম্যান্টের হোমিসাইড ডিটেকটিভ বলে। 

হোমিসাইড ডিটেকটিভ? ঘুম ভেঙ্গে দরজায় হোমিসাইড ডিটেকটিভ? কি ব্যাপার জিজ্ঞেস করলাম? বেশ বিস্মিত হয়েছি। তারা জানাল, আপনার দু’ বাসা পর গতরাতে যে মার্ডার হয়েছে সে ব্যাপারে আপনার সাথে কিছু বিষয়ে কথা বলতে পারি কি?

‘মার্ডার? আমি তো কিছুই জানি না।’

‘জানেন না, গতরাতে ঐ পাশের বাসায়  বৃদ্ধ-বৃদ্ধা দু’জনই মার্ডার হয়েছেন। ডাবল মার্ডার! আপনার যদি সম্মতি থাকে, তাহলে আমরা আপনার একটি পুরো স্টেটমেন্ট নিতে পারি।’

ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা দু’জনকেই প্রায়শঃ দেখেছি, যদিও তেমন পরিচয় নেই। বয়স তাদের ৭০ এর কম হবেনা। আমার দু’বাসা পরে থাকে বটে, তবে দ্বিতীয় বাসাটির পরে মাঝে একটা উঁচু দেওয়াল। একারণে তাদের কমপ্লেক্সটা আসলে বেশ পৃথক। ডিটেকটিভদের সাথে কথা বলছি আর অ্যাপার্টমেন্টেটির দিকে বারবার চোখ যাচ্ছে। ডিটেকটিভদের একজন আবার এর মাঝে জানতে চাইলেন, আপনার ঐ দ্বিতীয় প্রতিবেশীটি কি এখন বাসায় আছেন? বললাম, নক করেই দেখুন না? সে উত্তরে বলল, করেছি, কিন্তু কেহই ভেতর থেকে সাড়া দিচ্ছে না। ভাবলাম, সাড়া না দিলে তারা ভেতরে নেই। ইনি তাহলে আবার আমাকে একথা জিজ্ঞেস করছেন কেন? তবে অবশ্য দৃষ্টিটা একটু পরে চলে গিয়েছিল প্রতিবেশীর বাসার কোনায় দেওয়ালের উপর এয়ার কন্ডিশনটির দিকে। ওটি থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। তার মানে এয়ারকন চালু আছে। তবে কি তারা ভেতরে নেই? ততক্ষণে আশপাশ দেখে বুঝতে শুরু করেছি, আসলে আশেপাশের সব ভাড়াটেরাই ভেতরে আছেন, এবং ডিটেকটিভদ্বয়ও  ইতোমধ্যে সবাইকে নক করেছেন, কিন্তু কেউ দরজা খুলছেন না। এখানে কেউ কথা বলতে না চাইলে, পুলিশ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তাকে কথা বলাতে বাধ্য করাতে পারেন না। কেউ ভলান্টিয়ারিলি বলতে চাইলে সেটা ভিন্নকথা। তবুও আমার কাছে ব্যাপারটা সাংঘাতিক খারাপ লেগেছে। সবাই দরজা বন্ধ করে নিজেদের ‘কথা না বলার রাইট’ সংরক্ষণ করছে, অথচ এক প্রতিবেশী বৃদ্ধযুগল গতরাতে খুন হয়ে গেছেন, ব্যাপারটা একদম স্বার্থপরের মত মনে হচ্ছিল।  তাই ডিটেকটিভটি যখন আবার জিজ্ঞেস করল, আপনি স্টেটম্যান্ট দিতে রাজী আছেন কিনা, আমি হ্যাঁ-ই বললাম, তবে এও বললাম, দেখুন, আমি আসলে কিছুই জানি না, আমি বরং এইমাত্র আপনার মুখ থেকেই শুনছি যে, ঐ বাসায় দু’জন মার্ডার হয়েছেন। আমার স্টেটম্যান্ট আপনার কতটুকু কাজে লাগবে জানিনা, তবে রাজী আছি।

 ‘অবশ্যই কাজে লাগবে’ একজন মৃদুস্বরে জানাল, ‘আই এপ্রিশিয়েট ইফ ইউ গিভ এন স্টেটম্যান্ট!’

এবার তাদের ভেতরে আসতে বললাম। একজন ডিটেকটিভই প্রবেশ করল। বাকীজন অন্য কোনো বাসায় নক করতে চলে গেল। তাঁরা বেশ তড়িৎকর্মা, স্মার্ট ও কথাবার্তায় মার্জিত।  ডিটেকটিভটি একটি বেশ লম্বা ফরম বের করে আমাকে প্রশ্ন করতে থাকলেন। কতগুলো আমার নিজের সম্পর্কে সাধারণ কিছু ইঙ্কোয়ারি। আমি এক ফাঁকে জানতে চাইলাম, আপনারা কিভাবে খবর পেলেন যে মার্ডার হয়েছে? বললেন, ‘তাদের একটি ছেলে আছে, যিনি বেশ কিছুদিন হল তাঁদের সাথে থাকছেন। সেই পুলিশে ফোন করে জানায়, বাসায় তার মা-বাবার ডেডবডি পড়ে আছে, ছুরি মেরে কেউ তাদের হত্যা করেছে!

 এরপর তিনি উক্ত বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সহিত আমার জানাশোনা কেমন জানতে চাইলেন। তিনি বেশ দ্রুতই কাজ করে যাচ্ছেন আর লিখছেন। কথাবার্তায় তেমন গাম্ভীর্যতা নেই। আমার দিকে তেমন চোখ তুলে কথাও বলছেন না, চিন্তা করছেন আর অধিকাংশ সময়ই তার দৃষ্টিটি ফরমের উপর। যদিও আমি বেশ ভালোভাবেই বুঝি, এসব মার্ডার কেসের ক্ষেত্রে তিনি সন্দেহের তালিকা থেকে প্রতিবেশীদেরও বাদ দেননি। এজন্যই লোকজন কথা বলতে বের হয়না।  

 শেষের দিকে এসে সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করলেনঃ গতরাতে ৮ টা থেকে ৯ টার মধ্যে আপনি কোথায় ছিলেন?

‘এখানে, বাসায়।’

‘আপনি কি ঐ সময় কোনোপ্রকার শব্দ শুনতে পাননি?’

‘না’।

‘একটু ভেবে দেখুন, কোনোপ্রকার শব্দ যা আপনার কানে এসে থাকতে পারে।’

একটু ভাবলাম। তবে একই উত্তরঃ ‘না, আমি তেমন কোনো শব্দ শুনেছি বলে মনে করি না।’

‘ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার একটি পোষা কুকুর আছে, যা বাসার ভেতরে তাদের সাথেই থাকে। আপনি গতরাতে কখনও কি ঐ বাসা থেকে কুকুরের  কোনো ডাক শুনতে পেয়েছিলেন?’

‘না, তেমন কোনো ডাক শুনেছি বলে মনে হয়না।’

‘আরেকটু স্মরণ করার চেষ্টা করুন, কুকুরের কোনো ডাক গতরাতে যেকোন সময় আপনার কানে এসেছিল কিনা?’

আগেই বলেছি হত্যাকান্ডের খবরটাই পেয়েছি স্বয়ং যিনি আমাকে প্রশ্ন করছেন, তাঁরই কাছ থেকে। নিজের কাছে মনে হচ্ছিল এমন কোনো তথ্যতো তাঁকে দিতে পারছিনা যা তাঁর কাজে লাগবে বলে মনে হয়। অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তরেই আমাকে ‘না’ বলতে হচ্ছে। তবুও তাঁর প্রশ্ন করাতে কোনো বিরক্তি নেই।

তাই আমি বেশ কয়েক মূহূর্ত চিন্তা করতে থাকলাম, এমন কোনো শব্দ কি শুনেছি যা মাথার ভেতর লুকিয়ে আছে, কুকুরের কোন ডাক গতরাতে? তিনিও আগ্রহের সাথে আমার উত্তরের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছেন।

তবে আবারও বলতে হল, ‘না’।

 ডিটেকটিভ সাহেব এবার উঠে দাঁড়ালেন। স্টেটমেন্ট দেওয়ার জন্য আমাকে আবারও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানালেন। ফরমটির নীচে সাইন করতে বললেন।  দরজার দিকে এগুতে এগুতে বললেন, আমি যাবার পর রিপোর্টাররা হয়তঃ আপনার সাথে কথা বলতে চাইতে পারে। আমি তেমন কিছু না ভেবেই বললাম, ওকে। তবে মজাটা ক্ষণিকের মধ্যেই টের পেলাম। ডিটেকটিভ সাহেব বাইরে পা দিয়েই দ্রুতই কোন দিকে উধাও হয়ে গেলেন।

 দরজা বন্ধ করারও অবসর পাইনি। শুধু দেখলাম সাঁই সাঁই করে অন্ততঃ তিনটি টিভি চ্যানলের গাড়ী কোত্থেকে এসে হাজির। এবিসি, চ্যানেল নাইন, চ্যানেল সেভেন। আরও দেখি, সামনের মূল রাস্তায় আরও চ্যানেলের গাড়ী দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নিউজ চ্যানেলের মধ্যে সবচে’ বিখ্যাত, এবিসি (অষ্ট্রেলিয়ান ব্রডকাষ্টিং করপোরেশান), সেটি এসে থেমেছে আমার দরজার ঠিক এক হাত সামনে। দরজা বন্ধ করে দেব ভাবছি, স্মার্ট রিপোর্টার তরুণী ততক্ষণে মাইক্রোফোন হাতে দ্রুত এগিয়ে এল, পেছনে ক্যামেরাম্যানও ততক্ষণে রেডি। সাক্ষাতকার চাই। না বলার উপায় নেই। দেখলাম এই রিপোর্টার তরুণীটির প্রশ্ন ডিটেকটিভ সাহেব থেকেও বেশী শান দেয়া। সে প্রথমেই আমার মনোযোগ আকর্ষণ করল, ডিটেকটিভ পুলিশটি তোমার সাথে ঠিকমত কথা বলেছে কিনা? তোমার কি কোনো অসুবিধা হয়েছে? সে  কি জানতে চেয়েছে? আমি তাকে জানালাম, ডিটেকটিভ সাহেব খুবই নাইসলি আমার সাথে কথা বলেছেন। বুঝতে পারলাম, টিভি আর পত্রিকাগুলোর রিপোর্টার এই ডাবল মার্ডারের খবর কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। আর ডিটেকটিভ সাহেবের প্রতিটা পদক্ষেপ তারা ফলো করছে। সে কি করছে, কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? এদেশে সাধারণতঃ মার্ডার কেসের ক্ষেত্রে পুলিশ যদি ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে আসামী  না ধরতে পারে, অন্ততঃ আসামী কে, তা সম্পর্কে যদি যুক্তিসঙ্গত কোনো ব্যাখ্যা না দিতে পারে, তাহলে সেটিকে পুলিশের একরকম ব্যর্থতা হিসেবেই মিডিয়াগুলো চিত্রায়িত করবে। তাই খুন হবার পরে পুলিশ খুনির পেছনে লাগে আর সাংবাদিক লাগে পুলিশের পেছনে। তাই বুঝলাম ডিটেকটিভ সাহেব কি চাপেই না আছেন, তাঁর কার্যে এতটুকু অনিয়ম হলে রিপোর্টাররা তাঁকে ছিন্নভিন্ন করবে। যাহোক, এবিসি’র তরুণী হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আমার অনুভূতি জানতে চাইল। আমি কিছু কথা বললাম। এরপর আমি তিনটি চ্যানেলের সাথে কথা বলে ক্ষান্ত দিয়েছি, বলেছি এখন আমাকে কাজে যেতে হবে, এই বলে দরজা বন্ধ করেছি। পরে টিভিতে দেখেছি আমিসহ আরও দুইজন প্রতিবেশীর সাক্ষাতকার তারা নিতে পেরেছিল যা তারা নিউজে প্রচার করে। অথচ আশেপাশে ১৫-২০ টার মত ফ্যামিলি আছে, তবে কিসের ভয়ে তারা দরজা খুলেনা এখন বুঝতে অসুবিধা হয়না।


ঘরে ঢুকেও যেন স্বাভাবিক হতে পারছিলাম না। বারবার মার্ডারের ব্যাপারটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। কে তাদের খুন করতে পারে? কয়েকমাস আগে আমার বাসায় ব্রেক-ইন হয়েছিল। এগুলো সাধারণতঃ তেমন হয়না। কে যেন ঘরে ঢুকে আমার ল্যাপটপ, একটা এক্সট্রা হার্ডড্রাইভ, ওয়ালেট ও পাসপোর্টসহ বেশ কিছু জিনিস চুরি করে নিয়েছিল। দরজাটা খোলাই পেয়েছিলাম। তখন পুলিশে খবর দিলে তারা ডায়েরী করেছিল।এরপর অবশ্য চোর ধরতে পারেনি। এ ব্যাপারটার কথাও আজ যখন ডিটেকটিভ সাহেব প্রশ্ন করছিলেন, তাকেও কথা প্রসঙ্গে উল্লেখ্য করেছি। ডারউইন শহরকে সাধারণতঃ অষ্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের অলিখিত রাজধানী বলা হয়। আদিবাসীদের মধ্যে কারো কারো এসব টুকিটাকি চুরির অভ্যাস আছে বলে নানা পরিসংখ্যানে উল্লেখ। তাই ভাবছিলাম ঐ বৃদ্ধদের বাসায় হয়তঃ ঐ টাইপের কোনো ছিঁচকে চোর ঢুকে পড়েছিল, কিন্তু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তাকে চিনে ফেলে অথবা ধরে ফেলে, তখন হয়তঃ সে তাদের খুন করে পালিয়ে যায়। কারণ চুরিতে ধরা খেলেও আইনানুযায়ী তাকে বেশ কয়েক বছর জেল খাটতে হতে পারে। এটাই ছিল আমার আমার সলিউশান। তাছাড়া  কার এমন কি মোটিভ থাকতে পারে এধরণের বয়স্ক দম্পতীদের খুন করার?

 ঐ বাসার পেছনটায় রয়েছে এলাকার সবচে’ বড় পার্কটি। কফি হাতে বসেছি ব্যাল্কুনিতে, দেখি, একদল পুলিশ আর তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলো দিয়ে পুরো মাঠটি চষে বেড়াচ্ছে কিসের খোঁজে! বুঝলাম, পার্কটিই কিন্তু খুনীর পালিয়ে যাবার সবচে’ সুবিধাজনক পথ। পুলিশ খুঁজছে পার্কে খুনীটি কোনকিছু ফেলে গিয়েছে কিনা, যেটি কিনা একটি মার্ডার ওয়েপনও হতে পারে।

কিছুক্ষণ পরপর টিভি খুলেও দেখছিলাম, খবরটি প্রচার করা হচ্ছে গুরুত্বের সাথে। নিজেকেও এক অংশে দেখা গেল। ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকেও ডারউইনের লোকাল পেজগুলোতে লোকে নানা মন্তব্য করছে, আইন-পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে। অধিকাংশেরই অভিযোগের অঙ্গুলী আদিবাসীদের দিকেই তাক করানো।

 আর হ্যাঁ,  ডিটেকটিভ সাহেব সেই যে বাসা থেকে গেলেন, তাঁর সাথে আর কোনদিন দেখা হয়নি। একটু খারাপ লাগছিল এই ভেবে যে, আমি কেন যে কোন শব্দই শুনলাম না? তাহলে তাকে বলতে পারতাম। কিন্তু কি আর করা, আমি যে কিছুই শুনিনি, তাই বলেছি। সেটাই সত্য। তবে আমাকে অবাক করে দিয়ে ডিটেকটিভ সাহেবের কথা সহসাই টিভিতে প্রচারিত হতে লাগল। সন্ধ্যা গড়ানোর আগেই তিনি খুনীকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছেন। কিভাবে তা পারলেন? কে সেই খুনী? সে কি কোন আদিবাসী?

 না। আমাদের ধারণাকে ভূল প্রমাণ দিয়ে করে ডিটেকটিভ সাহেব এমন একজনকে ধরলেন যা বোধহয় এ শহরের কারো মাথায়ই আসেনি। টিভির নিউজগুলোতে ডিটেকটিভের দেয়া সাক্ষাতকার ও ব্যাখ্যা শুনে সারাদিনে এই প্রথম মনে হল, ডিটেকটিভকে দেয়া আমার স্টেটমেন্ট কোনোরকমেই অপ্রয়োজনীয় ছিলনা, বরং তার ঐ সব প্রশ্নের উত্তরে আমার  ‘না’ বলা আসলে ঘটনার সাথে সম্পূর্ণই সঠিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণই ছিল। ডিটেকটিভের নিজের কথায় তাঁর অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াগুলোর সার-সংক্ষেপে ছিল এইরুপঃ

“ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ছেলে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সকে ভোরে টেলিফোন করে জানায় যে, তার মাতাপিতাকে কে বা কারা হত্যা করে অ্যাপার্টমেন্টে ফেলে রেখে গেছে। আমরা তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে মৃতদেহগুলো পাই, তবে দরজা বা জানালা ভেঙ্গে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করেছে বলে তেমন কোনো চিহ্ন পাইনা। বাড়ীর আশেপাশে এবং পিছনের পার্কে হত্যাকারীর মার্ডার-ওয়েপনটি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও পেতে ব্যর্থ হই। আমি আশেপাশের কয়েকজন প্রতিবেশীর সাথে কথা বলতে সমর্থ হই, যাদের প্রত্যেকই জানান যে, তারা গতরাতে ঐ বাসা থেকে কোনপ্রকার সন্দেহজনক শব্দ বা ধ্বস্তাধস্তির আভাষ পাননি। কোনো প্রতিবেশীই বৃদ্ধদ্বয়ের পোষা কুকুরটিকে ডেকে উঠতে শুনেননি। এমতাবস্থায়, আমার দৃঢ় সন্দেহ হয় যে, হত্যাকারী কুকুরটির খুবই পরিচিত ছিল, যে কারণে তার আগমণে সে কোনপ্রকার শব্দ করেনি। এসব আমাকে এটাই ইঙ্গিত করছিল যে, খুনীর অনুপ্রবেশ বাইরে থেকে হয়নি। কারণ প্রতিবেশী, পার্কের মাঠ ও আশেপাশের প্রতিটি জায়গায় আমার অনুসন্ধান করে কিছুই পায়নি, ফলাফল জিরো। এটিই বরং আমার কেসটিকে সঠিক দিকে দেখতে সাহায্য করে। আমি তখন দিনে দ্বিতীয়বারের মত ঐ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ৪০ বছর বয়সের ছেলের সাথে আবারও কথা বলার সিদ্ধান্ত নিই, যে কিনা প্রথম তার মাতাপিতার খুন হওয়ার খবরটি আমাদের ফোন করে জানায়। তাকে আমি তখন পাই শহরের একটি বারে পানরত অবস্থায়। আমি তাকে জিজ্জাসাবাদ করার জন্যই থানায় নিয়ে যাই, যদিও অনেক রিপোর্টার আমি তাকে গ্রেফতার করেছি বলে তখন একটি ছোট্ট খবর ছাড়ে। কিন্তু তখনো আমি তাকে গ্রেফতার করিনি। জিজ্ঞাসাবাদের প্রশ্নজালে সে সামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এরপর বেশী বেগ পেতে হয়নি। এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, সে-ই তার মাতাপিতাকে খুন করেছে একটি ছুরি দ্বারা। তার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী আমরা ঐ মার্ডার ওয়েপনটিকেও উদ্ধার করতে সমর্থ হই। খুনীর বেশ কিছু মানসিক সমস্যা আছে, তার কথাবার্তায় মাতাপিতার সাথে তার বেশকিছু তিক্ত সম্পর্কের কথা বেরিয়ে এসেছে। এরপরই আমি তাকে গ্রেফতার করি।’    
 
 
আজমীর হোসেন
৮/১০/২০১৩
ডারূইন, অষ্ট্রেলিয়া

Monday, April 29, 2013

:: আমি কখনো সেলস্‌ম্যান হতে পারিনি ::


জানো আমি কখনো ভাল বিক্রেতা ছিলাম না
মুখে একখানা ভালো হাসি লটকে রাখতে
শিখিনি বলে সেলস্‌ম্যানের চাকরীটাও কপালে জুটেনি।
অথচ দেখ, হাসির যে কি গুণ তা নিয়ে কতকিছু যে পড়েছি,
নিজ হৃদপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়াও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব
অন্যের দেহমনেও কিভাবে সাঁই করে ছড়িয়ে দেয়,
আর তাতেই না কি দারূণ জমে উঠে জগতের বেচাকেনা।
নেচে উঠে ক্যাশবক্স কচ কচ 
আমি এসব মোটেও অস্বীকার করিনা। 

আমি বরং দেখেছি জগতে সবাই হাসতে শিখছে,
তবলার বিটে নৃত্যশিল্পীর পায়ের ঘুঙুর হাসে,
সূয্যিটা সকালে নির্লজ্জ একগাল হেসে উঠবেই,
পাখিরা কিচ্‌ করে হাসে, ফোক্‌লা দাঁতে খুকুমনি ফিক্‌ করে
বান্ধবীরা কথায় কথায় খিক্‌ করে,
এখন দেখি আবার ফেসবুকে মানুষ হাসে ক্লিক করে।
সবই দেখেছি আর ক্রমাগত হাসতে শিখেছি তাদের কাছ থেকে।

আমি আমার সময়ের অনেক হোমরা চোমরাকেও
দেখেছি হাসতে মাইক বাজিয়ে,
হাসছে প্রাণপণে, প্রাণহীনতায়।
কুকুরে মুখে হাসতে পারেনা বলে সেও হাল ছেড়ে দেয়নি,
মোক্ষম শিখে নিয়েছে কিভাবে হাসতে হয় লেজ দিয়ে ।

অথচ আমার আজও সেল্‌সম্যানের কাজটা জোটেনি,
তবে যেদিন তুমি আমার সামনে এসে দাঁড়ালে
আমার হাসি সেদিনও তোমাকে দেখাতে পারিনি।
তবে কি জানো,
মুখ ঝরে সেদিন হাসিটা নীচে না পড়লেও
কন্ঠনালী বেয়ে সেটি উঠে গিয়ে
ঠিক ঠিক পৌঁছে গেল আমার মস্তিস্কের নিউরণে,
সেখানে এক স্নিগ্ধ বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে
কিসের যেন আগুন লাগিয়ে দিল
সেই থেকে আমি আর সেল্‌সম্যানের চাকরী খুঁজিনা।

 

আজমীর হোসেন
নাইটক্লিফ, ডারউইন, অষ্ট্রেলিয়া
২৮.০৪.২০১৩

 


এটি কোনো গল্প নয়!

না, এটি কোনো গল্প নয়। ছোট একটি অভিজ্ঞতা। কার কি কাজে লাগবে তা জানিনা। তবে মন চাইল তাই লিখছি। গত সপ্তাহের কথা। সকালের দুটো ক্লাশ শেষ করে ৩০ মিনিট কফি ব্রেক। স্টাফ রুমের বাইরে ছোট্ট একটি বারান্দা। কফি টাইমে এ জায়গাটা চমৎকার। আশেপাশে নানান জাতের গাছ-গাছালি। বাতাস এলে নাচে। এ কলেজের বাগানটি বেশ বড়। আমি এ কলেজে পার্ট-টাইম আসি। দেখি গার্ডেনার (মানে সোজা বাংলায় যাকে বলি মালি), সেও আজ হঠাৎ এসে আমার সাথে কফিতে যোগ দিল।

হ্যালো জেইম্‌স, কেমন আছো? তাকে বেশ ক্লান্তই দেখাচ্ছিল। হাতে-পায়ে ধুলো। একটু আগেও তাকে কতগুলো ইট-সুরকি-আগাছা ইত্যাদি শাবল দিয়ে ট্রাকে তুলতে দেখেছি। পুরো প্রতিষ্ঠানের সবগুলো গাছের যত্ন সেই-ই করে। তার কাজ ও জীবনের অনেক কথাই কথায় কথায় জানালো। সে একজন লাইসেন্সধারী ট্রেইন্‌ড গার্ডেনার। এ প্রতিষ্ঠানে পার্ট-টাইম করে, এছাড়া আরও দুটি বিদ্যালয়েও একই কাজ করে। একটি মাত্র ছেলে। এখাঙ্কার একটি স্কুলে যায়। প্রতিদিন কাজ শেষে সে ছেলেকে স্কুল থেকে ড্রাইভ করে বাড়ীতে নিয়ে যায়। কারণ তার স্ত্রী সাংঘাতিক ব্যস্ত মহিলা। ফুল-টাইম কাজ করে বিধায় সময় দিতে পারেনা, সে বাড়ী ফেরে আরও দেরী করে। আরও বুঝলাম তারা বেশ সুখী পরিবার। তার শুধু একটাই আক্ষেপ, গত বছর কাজ করতে গিয়ে হাটুতে বড় ধরনের একটা ইনজুরি খেয়েছিল, অপারেশান করে ভালো হলেও পুরোপুরি যুকিমুক্ত নয়। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ‘কিছু কিছু রিস্কি কাজ করার লাইসেন্স হারিয়েছি।'

 'তা তোমার ওয়াইফ কোথায় কাজ করে? সে বলল, ‘এখানে, এ কলেজেই আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তাই নাকি? কই জানতাম নাতো, তা তুমি কোন টিচারের কথা বলছ? আমি তো এখানে সবাইকেই চিনি।

 সে তার স্ত্রীর নাম হিসেবে একটি নামের উল্লেখ করল।

 কফিটা গলায় বোধ হয় মূহূর্তের জন্য একটু আটকে গিয়েছিল নামটা শুনে একটু কি ভিমরি খেয়েছিলাম? ঢোক গিলে আবার জিজ্ঞেস করলাম, কি নাম বললে? (মনে মনে হয়তঃ ভাবছিলাম, ব্যাটা ফাজলামো করছিস্‌ নাতো)?

সে আবার একই নামটাই আমাকে জানালো!!

 না আমি আর তৃতীয়বার তার ওয়াইফের নাম জিজ্ঞেস করিনি। ততক্ষণে আমার অনুসন্ধানী চোখ চলে গেছে তার শার্টের বামদিকে লাগানো ন্যাম-ব্যাজটির উপর।

কেন জানি পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের কথা মনে পড়ে গেল। বিলেতে যে হোটেল-বয়ের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ খেতে গিয়ে উপহার হিসেবে সস্তা পাউরুটি কিনেছিলেন। কিন্তু আমার হাতে তো এখানে কোনো পাউরুটি নেই! তবে কি মনের কোণে অজান্তে পাউরুটি জাতীয় কোনো অনুভূতি কি লুকানো ছিল? তা নাহলে আমি তার স্ত্রীর নাম দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন?

 মালির ন্যাম-ব্যাজটিতে ফ্যামিলি নামের অংশ হিসাবে যার নামটি লেখা আছে সেটি এ কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের।

 
আজমীর হোসেন
নাইটক্লিফ, ডারউইন, অষ্ট্রেলিয়া
১১.১১.১২

Monday, May 7, 2012

স্মৃতিচারণঃ এক রজনীর

স্মৃতিচারণঃ এক রজনীর

মানুষের জীবনে কত স্মৃতিই না থাকে। সব কিছু কি সবসময় শেয়ার করে সে? কোনটা আনন্দের, কোনটা বেদনার, আবার কোনটা হয় আতংকের। তবে শ্রেণীবিভাগ যেভাবেই করি না কেন, অবশেষে একসময় তা আর শ্রেণীবিভাগ মানেনা। হয়ে যায় যেন অভিজ্ঞতার এক দ্রবণ। সেটা শেষ পর্যন্ত একরকম আনন্দদায়কই হয়।

আজ আমার মনে পড়ছে একটি বেশ আতংকের রজনীর কথা। তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ি। হলে উঠেছি তখন বছর খানেক হয়। হলের একটি রুমে সাধারণতঃ দু’টো বেড থাকে। আমার রুমেও তাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন খুব সম্ভবতঃ কোন এক স্বল্পকালীন ছুটি। নতুন রুমমেট। সিট পেয়ে অল্প কিছুদিন হলো এ রুমে উঠেছে। আজ অনেক কষ্ট করে তার ডাকনামটা মনে করতে পেরেছি। বাচ্চু। আমার থেকে জুনিয়র। বাচ্চু চেহারা দেখতে বেশ বলিষ্ঠ মারদাঙ্গা টাইপের হলেও প্রথম কয়েকদিনেই আবিষ্কার করলাম সে অসম্ভব ঠান্ডা, ধীরে হাঁটে, শব্দ হয়না, কথা বলে একদম কম। নিজের ডেস্কে বসে বই খুলে নাক ফুলিয়ে কি যেন ভাবে? বাড়ীর কথা হয়তঃ। দেখে মনে হয় বেশ গরীব ঘরের ছেলে। বাচ্চু ঘর-টানা ছেলে, কাজেই একদিনের জন্যও ভার্সিটি বন্ধ হলে সে শহরগামী ৩.২০ এর শাটল ট্রেন ধরবে। চল-চল বাড়ী চল। কাজেই যে রজনীর কথা বলছি সেদিন রুমে আমি একা। বাচ্চু বাড়ী গেছে।

রাত আড়াইটা কি তিনটা হতে পারে। বেশ রাত করেই আমার ঘুম আসে। ছুটি টুটি থাকলে তো কথাই নেই। কানের কাছে মৃদু বাজতে থাকা টেপ রেকর্ডারটা কখন যে থেমে গেছে জানিনা। ঘুমিয়ে পড়েছি মাত্র। ষষ্ঠ কি সপ্তম ইন্দ্রীয়ের তাড়নায় তা জানিনা, সদ্যপ্রাপ্ত ঘুমখানা একদমই হঠাত্‌ ভেঙ্গে গেল। কোনো শব্দ নেই, কিচ্ছু নেই। কিন্তু বুঝতে পারলাম রুমের ভিতর কি যেন একটা আছে। বুঝতে পারছি না। শুধু চোখের কোণ দিয়ে বালিশের উপর মাথা রাখা রেখে এবং মাথাটাকে একবিন্দুও না ঘুরিয়ে দেখতে পারলাম বিপরীত দিকের দেয়ালে কি যেন একটা দাঁড়িয়ে আছে। ভাবছি এটা কি? শরীরের লোমগুলো সব ইতোমধ্যে খাঁড়া হয়ে গেছে। রুমের একটিমাত্র দরজা যা আমার ঠিক পা বরাবর, তা বন্ধই আছে। তাহলে এ ছায়াটা রুমে ঢুকল কিভাবে? গা গির গির করে উঠছিলো। এক অশরীরী প্রেতাত্নার ভয়ে কখন যে আমি মনে মনে কুল হুআয়াল্লা সুরা পড়তে শুরু করেছি জানিনা। তবে মানুষের মস্তিষ্ক দ্রুতই ব্যাখ্যাযোগ্য সমাধান চায়। চিন্তা করে চলেছি, রুমের দরজা বন্ধ, রুমমেট সে-তো বাড়ীতে, এখানে আমি ভিন্ন আর কেউ নেই। অতএব এটির কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারেনা। কিন্তু না, এটি-তো আছে! তাহলে কেম্‌নে আছে? ঠিক তখুনি সমাধানটা পেলাম। যে মাথাটা এতক্ষণ এতটুকুও নাড়াচ্ছিলাম না, তা সহসাই পুরো পেছন ঘুরিয়ে যা দেখবার দেখে নিলাম। ভাবতেও পারিনি জিনিসটা ঐদিকে থাকবে।

অশরীরী আত্না আর কেউ নয়, সশরীরে চোর মহাশয় দাঁড়িয়ে আছেন ঠিক আমার মাথার পেছন দিকটার জানালার বাইরে ঝুলন্ত ব্যালকুনিতে। এটি একটি পরিত্যক্ত, ক্লোজড ব্যালকুনি। হল নির্মাণের সময় কেন এটি তৈরী করেছিল জানিনা, তবে এখন সেখানে আছে শুধু জানালা তাও আবার শক্ত রড দিয়ে ঘেরা। ঐ ব্যালকুনিতে কেউ যেতে পারেনা, কোনো প্রবেশ পথই নেই। আর আমি থাকতাম দো-তলায়, ব্যালকুনিতে চোরটা কিভাবে ঊঠেছিলো তা আজও আমার কাছে রহস্য রয়ে গেছে। তবে তার দূর্ভাগ্য যে, হলের পরবর্তী যে বিল্ডিংটি যা কিনা ডাইনিং হল নামে পরিচিত, তার বারান্দায় একটি মৃদু লাইট জ্বালানো ছিল; তারই অতি ক্ষীণ আলো চোরটির শরীরে লেগে আমার রুমের ওয়ালে এই অশরীরী ছায়া উৎপাদন করেছে। সে বড়শীর মত লম্বাকৃতির ছড়ি দিয়ে জানালার গরাদের বাইরে থেকেও আমার রুমের ভিতরের তারে টাঙানো দু’টি জামা (যার একটির পকেটে বিশ-বাইশ টাকার মত ছিল), লুঙ্গি ও আমার নতুন ক্রয় করা জাইঙ্গাটি অপর পাশ হইতে ইতিমধ্যেই হস্তগত করিয়াছে। । এমতবস্থায়, যখনি আমি মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকালাম, এবং ভয়ে কিছুক্ষণ আগেও মৃতপ্রায় আমি সশব্দে সজোরে ‘কে, কে ওখানে; চোর-চোর’ বলে চিৎকার করে  উঠলাম, তখন আর যায় কোথায়? তবে যায়, আমাকে দ্বিতীয়বার আরেকটি ভয়ংকর উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়ে তবে যায়। আমি তাকে শুধু ব্যালকুনি থেকে লাফ দিয়ে আমার দৃষ্টিসীমা হতে তিরোহিত হতে দেখি। বুকটা ধক্‌ করে উঠে। কারণ এ দো-তলা উচ্চতা থেকে নীচে পড়লে যে কেউ অক্কা পেতে পারে, তাছাড়া ওপাশটার নীচের অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষজনের কোনো চলাচল নেই, আবর্জনাপূর্ণ, আর সর্বপরি আছে হলের প্রধান ড্রেনটি, যার ভিতর পড়লে চোরটির মারা যাবার সম্ভাবনাই বেশী। একটা সাংঘাতিক অপরাধবোধ জেগে উঠল। হোক না চোর, সামান্য কিছু চুরি করে হয়তঃ বউ পোলাপান নিয়ে একটু সুখী হতে চাইছে। তাই একই সাথে আতংকিত ও উৎকণ্ঠিত হয়ে তাড়তাড়ি জানালের কাছে দাঁড়াই নীচে কি অবস্থা দেখার জন্য। বুকটা সত্যি ধক্‌ ধক্‌ করছিলো, যদি দেখি তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে নীচে। কি ভয়ংকর অনুভতি হচ্ছিল তখন বুঝানো মুশকিল!


তবে আমার অবাক হবার পালা। একনজর দেখলাম শক্ত-সামর্থ সুঠাম দেহটি আমার উৎকণ্ঠাকে থোড়াই কেয়ার করে কি সাবলীল অ্যাথ্‌লেটিকদের মত চমৎকার দৌঁড়ে চলে যাচ্ছে। হাতে কিন্তু তখনও আমার কাপড়-চোপড়গুলো ঠিক ধরে রেখেছে (পরে বাচ্চু হলে ফিরলে জেনেছিলাম তারও দুয়েকটি জামা-কাপড় একই সময় চুরি গিয়েছিল)। ততক্ষণে আমার চিৎকারে আশেপাশের রুমের দু’একজন জেগে উঠেছে। সেদিকে অপেক্ষা না করে দ্রুতই রুমের দরজা খুলে সিঁড়ি বের হয়ে নিচে নেমে গেলাম হলের দারোয়ানের উদ্দেশ্যে। আমি তার নিকট পৌঁছুবার পর সেও খানিকটা চেঁচামেচি করল। আমি তাকে চোরটাকে ধাওয়া করতে বল্‌লাম।  সে একটুখানি এগিয়ে চোরটির প্রস্থানপথের দিকে তাকিয়ে আমাকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জানালো-“চোরাইয়া কি আর আছেনা, ইবা এতক্কনত্‌ জোবরা গেরামে হান্দাই গিইয়েদে”। (অর্থাৎ চোর কি আর আছে নাকি, সে এতক্ষণে জোবরা গ্রামে ঢুকে গিয়েছে)। জোবরা গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত একটি অনগ্রসর ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম, ঐখান থেকে চোরকে খুঁজে বের করা আর্মির টিম দিয়েও হবেনা। ডঃ ইউনুস এ গ্রামটির কথা মাঝে মাঝে তাঁর বক্তৃতায় বলে থাকেন, ৭৪ এর দূর্ভিক্ষে এ গ্রামের মানুষগুলোর জীবন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, যখন তিনি ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করতেন।

জানালার গরাদে চোরটা শুধু তার ঐ বড়শীর ছিপিটা আমার জন্য রেখে গেছে। ঐটাকে বাইরে ফেলে দিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দিলাম, যদিও জানি আজ রাতে আর সে আসছে না। যাহোক, রাতে আর ঘুম হলনা। ভাবলাম সকালে ডিম-পরোটা দিয়ে জয়নাল মিয়ার দোকানের নাস্তা খেয়ে তবেই ঘুমাব। তার দোকানে হলের কয়েকজন সাধারণ ছাত্রের কাছ থেকে কিছু তথ্য পেলাম। তারা বলল এ চোরটি আরও কয়েকটি রুমে এভাবে চুরি করেছে। অনেক ছাত্রদের রুমে টাকা-পয়সা, চা’য়ের ফ্লাস্ক, জামা-কাপড় ইত্যাদি চুরি যাচ্ছে। হল প্রশাসন তাকে ধরছে না। আরো জানাল, হল-দারোয়ান এর সাথে এর আঁতাত আছে। আবার হল দারোয়ানের সাথেও একগোষ্ঠী আছে যারা এসবের ভাগ-ভাটোয়ারা পায়। বুঝলাম -আরও আছে যে চোর!

Thursday, January 12, 2012

একটি কৌতুক


একটি কৌতুকঃ

(কৌতুকটি ১৪/১৫ বৎসর আগে বিটিভি’র একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে শুনেছিলাম। উপস্থাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের মুখে বলা। কৌতুকের ভাষাটুকু হুবহু মনে নেই, তবে বিষয়বস্তু স্মরণ করতে পারছি। সে স্মৃতি থেকে ভেতরের বর্ণনাটুকু সাজিয়েছি।)

দু'বন্ধু সিনেমা দেখতে গেছে প্রেক্ষাগৃহে। অন্ধকার সিনেমা হল। ছবি শুরু হতেই সিনেমার পর্দার আলো এসে পড়ল। তাতে প্রথম বন্ধু দেখতে পেল তাদের ঠিক সামনের সারির সিটে যে ভদ্রলোকটি বসে আছেন তার মাথায় প্রকান্ড একটি টাক, একটু তৈলও লাগিয়েছেন মনে হচ্ছে, পর্দার তীক্ষ্ম আলো পড়লে চিকচক করে উঠ্‌ছে। প্রথম বন্ধুর মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপল। পাশে বসা দ্বিতীয় বন্ধুকে সামনের সারির টাক-টিকে দেখিয়ে বলল, যদি তুই ওর মাথায় একটা চাপড় দিতে পারিস আর উল্টো-মার না খাস, তবে পাবি দুশত টাকা। কিন্তু সে যদি তোকে পাল্টা-মার বসিয়ে দেয়, তবে তুই আমাকে দিবি দু’শ টাকা। কেমন? এ বাজিতে রাজি?

২য় বন্ধু সাথে সাথেই বলল, আমি রাজি!

১ম বন্ধুঃ আবারো বলছি, ভালো করে ভেবে দেখ। বাজির শর্ত কিন্তু ওই ব্যাটার চাঁদিতে একটা চাপড় দিতে হবে, তাতেই কিন্তু শেষ না, তার কাছ থেকে পাল্টা মার খাওয়া যাবেনা; যদি মার খাস তাহলে বাজিতে তোর হার, আমাকে দিতে হবে ২০০ টাকা, আর যদি পাল্টা মার না খাস তবেই বাজিতে তোর জিত, আমার কাছ থেকে জিতবি ২০০ টাকা। এখন ভেবে দেখ এ বাজিতে রাজী আছিস কিনা? (মনে মনে ভাবল- তার বন্ধুটি এ বাজিতে নির্ঘাৎ হারবে)।

২য় বন্ধুঃ রাজী মানে পুরোই রাজী। যেই ভাবনা সেই কাজ। এই শুরু করলাম বলেই সামনের সারিতে বসা লোকটার চাঁদিতে ঠাস করে প্রকান্ড একটা চাপড় বসিয়ে দিল, সাথে সাথেই বলে উঠলো, আরে আব্দুল্লাহ ভাই যে, কতদিন পর তোমার সাথে দেখা, আরে তুমি আর আমি যে একই হলে বইস্যা সিনেমা দেখ্‌তাছি!

টেকো দর্শকঃ হতচকিত হয়ে ঘাড় ফিরিয়ে বলে উঠলো, আরে করছেন কি? কে আপনার আব্দুল্লাহ ভাই? আমি আব্দুল্লাহ ভাই না। আপনি ভূল করছেন!

২য় বন্ধুঃ বলেন কি! এতোদিনের পরিচিত আব্দুল্লাহ ভাইকে চিন্‌তে তো ভূল হবার কথা নয় আপনার চেহারা তো অবিকল আব্দুল্লাহ ভাই'র মত।

টেকো দর্শকঃ বলেছি-তো, আমি আব্দুল্লাহ ভাই না। আপনি ভূল করছেন!

২য় বন্ধুঃ তাই নাকি? সত্যিই অবাক ব্যাপার! চেহারার এত মিল! যা'হোক ভাই, সরি, আপনাকে আব্দুল্লাহ ভাই ভেবে ভূল করে চাপড় মেরে দিয়েছি।

টেকো দর্শকঃ আচ্ছা ঠিক আছে, কি আর করা?

এখন ২য় বন্ধুটি ১ম বন্ধুকে পাশ ফিরে বললো, দে আমাকে ২০০ টাকা দে। বাজিতে আমি জিতেছি, চাপড় দিয়ে তাকে ম্যানেজ করতে পেরেছি, পাল্টা-মার খাইনি।

১ম বন্ধুকে বাজিতে হেরে বিরস বদনে টাকাটা দিয়ে দিতে হল।

 অনেকক্ষণ পর আবারো ১ম বন্ধুটি ২য় জনকে বললো, এবার যদি তুই তাকে আরও একটা চাপড় দিতে পারিস আর পাল্টা-মার না খাস -তাহলে পাঁচশ টাকা বাজি। আর পাল্টা-মার খেলে আমাকে দিতে হবে পাঁচশ টাকা। কি, ঠিক আছে? ( মনে মনে ধরে নিল, এবার তার বন্ধুটি পাল্টা মার না খেয়েই যায় না)

২য় বন্ধুঃ ঠিক আছে। যেই কথা সেই কাজ! চটাস করে তৎক্ষণাৎ টেকোটির মাথায় একটা চাপড় বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগল, আরে আব্দুল্লাহ ভাই! তুমি আমার সাথে রঙ্গ করতাছো, ভাব্‌ছো পরিচয় না দিলে আমি তোমারে চিন্‌তাম না !  আমি কিন্তু তোমারে ঠিকই চিন্‌ছি, কতদিনের চেনাজানা মানুষ, পরিচয় গোপন কইর‍্যা তামাশা ,কর্‌তাছো। তুমি-ই তো আব্দুল্লাহ ভাই, হে হে, কও কি খবর-টবর তোমার?

টাকওয়ালা দর্শকঃ  ভয়ানক ক্ষেপে গিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, কে আপনার আব্দুল্লাহ ভাই? কি শুরু করেছেন আপনি? পয়সা খরচ করে সিনেমা দেখ্‌তে এসেছি, আর আপনি আমাকে কোথাকার আব্দুল্লাহ ভাই মনে করে একটার পর একটা চাপড় মেরে চলেছেন? হচ্ছেটা কি?

২য় বন্ধুঃ  আপনি কি বলতে চাইছেন আপনি আব্দুল্লাহ ভাই না? মানুষের চেহারা অবিকল এক হয় কি করে?

টেকো দর্শকঃ  বলেছি তো আমি আব্দুল্লাহ ভাই না, আপনি কেন বারবার ভূল করছেন?

২য় বন্ধুঃ  সরি, ভাই, ভেরি সরি, অবিকল একই চেহারার মানুষ যে থাকতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে কখনো পড়ি নাই। আপনি দেখতে অবিকল আব্দুল্লাহ ভাইয়ের মত। প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড!

টেকো দর্শকঃ  অগ্যতা রাগ দমন হয়ে বসে নিজের সীটে বসে পড়লেন। ভাবলেন হয়তঃ তার চেহারার সাথে ঐ আব্দুল্লাহ ভাই নামক ব্যাক্তিটির কাকতলীয় মিলের কারণে এই গাধাটা বারবার ভূল করছে।

এবারও ২য় বন্ধুটি মার না খেয়ে বাজিতে জিতে গেল। ১ম বন্ধুকে দিতে হল আরও ৫শ টাকা। সে তো ভীষণ বেজার। কোনভাবেই যে ২য় বন্ধুটি মার খাচ্ছেনা, আর সে হেরেই চলেছে!

এদিকে সিনেমা শেষ। দু'বন্ধু সিঁড়ি দিয়ে দর্শকের ভীঁড়ের সাথে নেমে যাচ্ছে। এসময় দেখ্‌তে পেল তাদের ঠিক সামনের সিঁড়ি দিয়ে ঐ টেকো-টাও নামছে। 

১ম বন্ধুটি বললঃ এবার যদি তারে চাপড় মারতে পারিস আর উল্টো-মার না খেয়েছিস- তবে বাজি রইলো ১০০০ টাকার (১ম বন্ধুটির বদ্ধমূল ধারণা- এবার তার বন্ধুটি কোনমতেই ম্যানেজ করতে পারবে না, পাল্টা-মার খাবেই খাবে। আর তাই বাজিতে জিতে গেলে যা এ পর্যন্ত হারিয়েছি তারচেয়েও বেশি ফেরত আসবে। তাই ১০০০ টাকা বাজি।)

২য় বন্ধুঃ সাথে সাথেই রাজি। যেই কথা সেই কাজ। পটাশ করে বসিয়ে দিল একখানা চাপড় টেকো-টির চাঁদিতে। আর সাথে সাথেই একগাল হাসি নিয়ে বলতে থাকল, আরে আব্দুল্লাহ ভাই, তুমি এইখানে? অথচ হয়েছে কি জানো, সিনেমা হলের ভেতর এক ভদ্রলোককে তুমি ভেবে আমি তার চাঁদিতে দু-দু'টা চাপড় মেরে দিয়েছি। ভদ্রলোকের চেহারা দেখ্‌তে অবিকল তোমার মত। দেখো তো কি কান্ড! অথচ তুমি যে এইখানে!

টেকো লোকটি স্তম্ভিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকলো। এরকম একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির আশু প্রতিকার কিভাবে সম্ভব তা আর ভাবতে না পেরে কার্যতঃ সে নির্বাক হয়ে গেল।

এবারও ১ম বন্ধুটির আশা পূরণ হল না। ২য় বন্ধুটি জিতে নিল আরো ১০০০ টাকা !!!

Thursday, November 17, 2011

Why Teaching?

You cannot teach a man anything; you can only help him find it within himself. – Galileo

Well it’s very true, as 'teaching' people can sometimes have devastating effects on their life. It is sometimes wrong to teach anyone but a willing student, people will rebel and are right to. Who the hell is anyone to decide who needs to be taught what? Teaching is wonderful, but only and only when you get the permission of the student themselves to teach them. Anything else is nothing more than dictatorship in a small scale: Overlarding some poor soul because you think you know best. Think of it, how many have regrets in their life because they listened to someone else and not their own hearts? Teacher will appear when the students are ready!

 I cannot teach anyone anything, I can only make them think." -- Socrates (centuries before Galileo)

BUT, they are values that we as teachers or parents must pass on to our children. And what if someone says. ‘I never found algebra or E=mc2 within me’. Does teaching come inevitable then?

The truly wonderful thing about teaching is that as a teacher, you facilitate the learning process during the truly "teachable moments. This learning process starts when the student reveals for his/herself the facts being presented. Then, as the student "sifts" through those facts, the amazing learning moments take place as the facts begin to make sense. This process cannot happen unless and until the student begins to validate these thoughts as they relate to life around him or her. The truly great and effective teachers think of creative ways to nurture the self-esteem needed to facilitate learning and make it an enjoyable and meaningful experience.

Good teachers don't simply give information, they inspire students to learn.

Give a man a fish and you have fed him for today. Teach a man HOW to fish and he can feed himself for the rest of his life.

"Many people are good at talking about what they are doing, but in fact do little. Others do a lot but don't talk about it; they are the ones who make a community live." — Jean Vanier.

Best gift to another is to guide and allow him to be independent. Millions of people can look at the same thing, sky, water, and person; and yet, every person sees it differently. We are not all the same and we have our own personal vision. Thinking opposite of someone does not make it wrong or right...it just makes it different, don't let anyone tell you that you have to think like/act/walk/talk, etc... "You" love yourself for who "You Are". if you try to be someone else, you will fail every time! Love yourself!!

Don’t teach or mold a man into someone he can never be, instead, just be there to help him finding and unlock his inner strengths.


Sunday, September 11, 2011

Ad Hominem (Argument To The Man)

Ad Hominem

 Well, it’s a Latin word. In English it needs to be explained a little bit. Ad Hominem is an expression meaning “to the man.” An ad hominem argument is one that relies on personal attacks rather than reason or substance. It’s about appealing to one's prejudices, emotions, or special interests rather than to one's intellect or reason. In other words, it’s about attacking an opponent's character rather than answering his argument. [1]

 There are three major forms of Attacking the Person:

Ad hominem (abusive): instead of attacking an assertion, the argument attacks the person who made the assertion.
  • Ad hominem (circumstantial): instead of attacking an assertion the author points to the relationship between the person making the assertion and the person's circumstances.
  • Ad hominem (tu quoque): this form of attack on the person notes that a person does not practise what he preaches.

Examples:

  • You may argue that God doesn't exist, but you are just a fat idiot. (ad hominem abusive)
  • We should discount what Steve Forbes says about cutting taxes because he stands to benefit from a lower tax rate. (ad hominem circumstantial)
  • We should disregard Fred's argument because he is just angry about the fact that defendant once cheated him out of $100. (ad hominem circumstantial)
  • You say I should give up alcohol, but you haven't been sober for more than a year yourself. (ad hominem tu quoque)
  • You claim that Mr. Jones is innocent, but why should anyone listen to you? You are a Mormon after all. (ad hominem circumstantial) [2]
References:

  1. http://dictionary.reference.com/browse/ad+hominem
  2. Barker: 166, Cedarblom and Paulsen: 155, Copi and Cohen: 97, Davis: 80